1. darilymukitdak@gmail.com : Mukti TV HD : Mukti TV HD
  2. info@muktitv24.com : muktitv :
  3. banglahost.net@gmail.com : rahad :
শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

আগামী বছরের জুনেই পদ্মা সেতুতে চলবে গাড়ি, ঘুচবে ‘দক্ষিণাঞ্চলের দুর্ভোগ’।

রাসেল খান। নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • Update Time : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
  • ২২২ Time View

:দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের জুন মাসেই যাবনবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে সেতু। এর মাধ্যমে অবসান হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যুগের পর যুগ ধরে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ।গতকাল মঙ্গলবার (৮ জুন) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সেতুর জাজিরা প্রান্তের সব রোডওয়ে স্ল্যাব বসে গেছে। সেতুতে দুই হাজার ৮৪৭টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর এক হাজার ৩১২টি স্ট্রিনজারের মধ্যে বসানো বাকি মাত্র ১৬টি। এতে সেতুটি যানচলাচল উপযোগী হওয়ার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।সেতু বিভাগ আশা করছে, সব কাজ ঠিকমতো এগোলে আগামী বছরের জুনে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। একই দিন ট্রেন চালুরও লক্ষ্য আছে। যদিও ট্রেন চালুর বিষয়টি অনিশ্চিত।পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী জানান, সেতুর বাকি স্ল্যাবগুলো ইয়ার্ড থেকে সড়কপথে মাওয়ার ১ নম্বর পিয়ার দিয়ে উঠবে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও উত্তাল পদ্মার ওপরে সেতুর কাজ চলবে পুরোদমে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের ৩ দশমিক ১৪ কিলোমিটারের সংযোগ সেতু দুই লেন করে সড়কে যুক্ত হবে। তিন ভাগে ছয় লেন ইতোমধ্যে যুক্ত হয়ে গেছে।অপরদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় কোনো সমস্যা না হলে সড়ক ও রেলপথের স্ল্যাব বসানোর কাজ সেপ্টেম্বরেই শেষ হবে। এরপর চাইলে হেঁটেই সেতু পার হওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, আগামী জুনেই পদ্মা সেতু চালু করা যাবে।প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচলের পথ তৈরি করতে ২ হাজার ৯১৭টি কংক্রিটের স্ল্যাব বসানোর কথা। ১ জুন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ২ হাজার ৬০৪টি। আরও বাকি আছে ৩১৩টি স্ল্যাব। এরপর স্ল্যাবের ওপর দুই মিলিমিটারের পানি নিরোধক একটি স্তর বসানো হবে, যা ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন নামে পরিচিত। এটি অনেকটা প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের মতো। তারপর পাথর, সিমেন্ট ও বিটুমিন দিয়ে কয়েক স্তরের পিচ ঢালাই হবে। এর পুরুত্ব প্রায় ১০০ মিলিমিটার।এ ছাড়া যানবাহন চলাচলের দুই পাশে দেয়াল ও সড়ক বিভাজক দিতে হবে, যা প্যারাপেট ওয়াল নামে পরিচিত। কংক্রিটের প্রায় ১২ হাজার ৩৯০টি স্ল্যাব জোড়া দিলে সেই দেয়াল সম্পন্ন হবে। এখন পর্যন্ত প্যারাপেট ওয়ালের স্ল্যাব বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫৩৬টি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্যারাপেট ওয়ালের বাকি স্ল্যাবও তৈরি হয়ে গেছে। এখন শুধু বসাতে হবে।পদ্মা সেতুতে অন্য সেতুর মতো সড়কবাতি থাকবে। তবে বাড়তি হিসেবে পুরো সেতুতে স্থাপন করা হবে আর্কিটেকচারাল লাইটিং। এটি দিয়ে জাতীয় দিবস বা বড় কোনো উপলক্ষ এলে সেতুটি নানা রঙে আলোকিত করা যাবে। দুবাইয়ের বুর্জ আল খলিফা টাওয়ারসহ বড় বড় স্থাপনায় এমন আলোকসজ্জার ব্যবস্থা আছে।পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীনে মূল সেতুতে রেলপথ এবং সেতুর দুই প্রান্তে ৫৩২ মিটার উড়ালপথ তৈরি করছে সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুতে রেলপথ তৈরির জন্য ২ হাজার ৯৫৯টি কংক্রিট স্ল্যাব বসানোর কথা। এর মধ্যে বসানো হয়েছে ২ হাজার ৮১৫টি। বাকি আছে ১৪৪টি।এর বাইরে মাটি পর্যন্ত বাড়তি উড়ালপথ তৈরি, রেললাইন বসানো এবং ট্রেন পরিচালনার দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এ কাজে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলওয়ে। এর আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সেতু বিভাগ। ২০০৭ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরে তিন দফা ব্যয় বেড়েছে। এখন পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী জুনে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরের এক বছর সেতুতে কোনো ত্রুটি হলে ঠিকাদার সারিয়ে তুলবে, ঠিকাদারের পাওনা থাকলে তা-ও মেটাবে সেতু বিভাগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category