1. darilymukitdak@gmail.com : Mukti TV HD : Mukti TV HD
  2. info@muktitv24.com : muktitv :
  3. banglahost.net@gmail.com : rahad :
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকগন নিজেদের রোহিঙ্গার চেয়েও অনিরাপদ মনে করছেন

এম. মাহামুদুল হাসান || প্রধান সম্পাদক
  • Update Time : সোমবার, ১০ মে, ২০২১
  • ৩৯৫ Time View

Mukti TV HD || “রোহিঙ্গা হলেও আফসোস থাকত না” কথাগুলো বলেছিলেন জনাব মো: শফিকুজ্জামান (এম.এ) সাহেব। তিনি একটি বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। সারা বিশ্ব যখন করোনার ছোবলে ক্ষতবিক্ষত তখন ২০২০ সালের মার্চ মাসেই সারাদেশের স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষনা হয়ে যায়। একসপ্তাহ, দু’সপ্তাহ এভাবে কর পুরো ২০ সাল শেষ হয়ে ২১ সালের মাঝপথে এখন। এখোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কোন ইয়াত্তা নেই। কবে নাগাদ শিক্ষকরা আবার স্কুলে যাবেন, ছোট্ট সোনামনিদের সাথে পাঠপরিক্রমায় মেতে উঠবেন সে খবর কেউ জানে না। দেশের প্রতিটি সেক্টরে সরকারী প্রনোদনা সহায়তা কিংবা স্বল্প পরিসরে খোলার পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নেহায়েত ভাবার যেন কোন লোকই নেই। স্কুল মালিকগন দয়া করে দু’একমাসের বেতনাদী নিজেদের পকেট থেকে পরিশোধ করলেও বেশিরভাগ বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির পথে। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগন যে যার মত করে যাচ্ছেতাই পেশা বেছে নিয়েছেন। কিছু শিক্ষক প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে নিজ উদ্যোগে অনলাইন ক্লাসের চেস্টা করলেও সে হিসেব বড়ই ক্ষুদ্র। সর্বোপরি অনলাইন ক্লাসের জন্য সবচেয়ে দরকারী জিনিস মোবাইল বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। দু’একটি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্দ্যোগে স্কুলে ওয়াইফাই সংযোগ দিলেও সরকারী নিয়মের ফেরে পড়ে শিক্ষকগন স্কুলমুখী হতে পারছেন না। এদিকে যেসকল শিক্ষক দুএকটি টিউশনী করিয়ে জীবন চালাতেন তাও বন্ধ। অভিভাবকগন উল্টো হুমকি দিচ্ছেন – নো স্কুল, নো বেতন। নো পরীক্ষা নো টিউশনী। এমতাবস্থায় দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী বেসরকারী শিক্ষকগন যারপরনেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

করোনাকালীন সরকারী স্কুলের শিক্ষকগন যথাযথ বেতন বোনাস পেয়ে যাচ্ছেন তার মানে এই নয় যে সেটা দেখে হিংসে করছি। বরং সরকার এবং হাতে গোনা দুএকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান মালিকদের এটা মনে করিয়ে দিতে চাই দেশের শিক্ষাব্যাবস্থায় বেসরকারী স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কোন অংশেই সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম অবদান রাখেন না। যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকগন এই দুর্যোগের সময়ে তার শিক্ষকদের বেতনাদী যথাযথ পরিশোধ করতে পারবেন না,ভবিষ্যতে তাদের প্রতিষ্ঠান চালানোর কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকগন বলতে পারেন আমরা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনরুপ অর্থগ্রহণ করি না । আমি বলব থাক অনেক হয়েছে এবার দয়া করে এই ক্ষেত্রটি ছেড়ে দিন। যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষককর্মচারীদের সংকটকালীন বেতনভাতিদী বহন করতে পারবেন না সে প্রতিষ্ঠান চালনোর নামে দেশ সেবা না করাই ভাল। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এহেন নিম্নমানের চাকুরিতে যোগদানের সুযোগ পেয়ে নিজের উজ্জল ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজের ভাগ্যকে কলঙ্কিত না করে। তাছাড়া বেসরকারী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষক কর্মচারীর বেতনের যে পরিমান নির্ধারন করেছিলেন সেটা দেখলেই মনে হবে সত্যিই শিক্ষকতা সবচেয়ে অবহেলিত পেশা। এ নিয়ে সরকার কিংবা কর্তাব্যাক্তিদেরও কোন দায় দেখিনি কোনদিন। বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, বেতনাদীতে নেই সরকারী কোন পদক্ষেপ এ যেনো দেখেও না দেখার ভান করে থাকা।

কুলি, মজুর, শ্রমিক এমনকি ভবঘুরেদেরও ইউনিটি আছে, কেবল নেই বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের। পরিবহন বন্ধ থাকাতে পরিবহন শ্রমিকের ধর্মঘটের মুখে সরকার বাধ্য হয়েছে পরিবহন খুলে দিতে। মার্কেট ব্যাবসায়িদের দাবি মানতে করোনা মহামারী উপেক্ষা করে সকল মার্কেট খুলে দিতে সরকার বাধ্য হয়েছে। কেবল খুলে দিতে পারেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আসল কথা হচ্ছে বেসরকারী শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলার মত কেউ নেই। না আছে এদের কোন সংগঠন, না আছে এদের কোন অভিভাবক। কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন নামের স্কুল মালিকদের কিছু সংগঠন থাকলেও তারা তাদের বেশিরভাগই নিজ প্রতিষ্ঠানের লাভক্ষতি নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। শিক্ষকদের আর্তনাদ মমতাময়ী মায়ের কান পর্যন্ত কখনোই পৌঁছায় না। তিনিওবা কেন এসব শিক্ষকদের নিয়ে ভাববেন? বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকগন মমতাময়ী মায়ের জারজ সন্তান! তাই মায়ের সময় নেই এদের নিয়ে কথা বলার। মায়ের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী অভিভাবকদের বলে দিয়েছেন স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে কিন্তু এটা বলে দেননি যারা পরিশোধ করতে পারবেনা তাদের বেতনের ঘাটতি এসব অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথা থেকে পূর্ণ করবে? কিভাবে তাদের শিক্ষক কর্মচারীর বেতনাদি পরিশোধ করবে?

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড। শিক্ষক সেই মেরুদন্ডের ধারক। আজ বাংলাদেশে শিক্ষা খাত ও শিক্ষকদের নিয়ে যেরুপ তামাশা হচ্ছে তাতে পুরো জাতি মেরুদন্ডহীন হতে খুব একটা সময় লাগবে না। সরকার শিক্ষাব্যাবস্থাকে যুগোপযোগী করতে আরো পদক্ষেপ নিতে পারত। করোনাকালীন কেবল সংসদ টিভিতে গতানুগতিক একমুখী পাঠদান করিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে দিয়েছে। শুনেছি এ নিয়েও বাজেটে টাকার পাহাড় দেখিয়ে কর্তাব্যাক্তিরা উদোরপূর্তী করেছেন। সরকারী স্কুলগুলোয় যেভাবে অনলাইন ক্লাস করার জন্য সারঞ্জামাদি ও অর্থ বরাদ্ধ করেছেন, বেসরকারী স্কুলেও এসকল সুযোগসুবিধা প্রদান করতে পারত।

আজ নয় কাল দেশে করোনা ঠিকই একদিন মানুষের কাছে হার মানবে। সেদিন হয়ত এই সংকট আর থাকবেনা তবে থেকে যাবে স্মৃতি। যে সকল শিক্ষকগন আজ বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের দীর্ঘশ্বাসে এই সমাজ ব্যাবস্থার অনেককিছুই পাল্টে যাবে সেদিন। একদিন এই শিক্ষকগনও ঘুরে দাড়াবে তবে সেটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আমি হলফ করে বলতে পারি শিক্ষকদের প্রতি এহেন চরম অবহেলার দাম একদিন দিতে হবে হাড়েহাড়ে।

লেখক:
আহবায়ক,
বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক সমাজ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category