1. darilymukitdak@gmail.com : Mukti TV HD : Mukti TV HD
  2. info@muktitv24.com : muktitv :
  3. banglahost.net@gmail.com : rahad :
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক কবিতার আসর ( নির্বাচিত বাংলা কবিতা)

শাকিল আনোয়ার
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৫০৭ Time View

নির্বাচিত বাংলা কবিতা ||

(১)

বিদায়ের ঘন্টা
চিন্ময়ী মিত্র (কলকাতা)

সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।
মেঘলা আকাশ আমাকে ডাকছে।
তবে কিসের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি?!
হয়তো ঘন্টাধ্বনি!
সেকি আমার বিদায়ের?!
স্কুল ছুটি হলে ঘন্টা পড়তো।
আমার ও কি ছুটি হয়ে গেলো জীবনের স্কুল থেকে?
হয়তো তাই?
এতো অন্ধকার কেনো?
কিছু দেখতে পাচ্ছিনা!
এতো যন্ত্রণা কেনো হচ্ছে বুকে?
হঠাৎ ঘুম ভেঙে জানালা ধরে বসে থাকি অন্ধকারে!
যেমন বসে থাকতো অমল রাজার প্রতীক্ষায়!
আমিও বসে আছি প্রিয়র প্রতীক্ষায়।
হায়! রাজা যখন আসলো অমল চলে গেলো।
আমার প্রিয় যখন ফিরে আসবে তখন হয়তো আমিও চলে যাবো।
কেনো এতো যন্ত্রণা প্রবল আকার ধারণ করছে?
আহ! অসহ্য!
অমলের কথা সুধা মনে রেখেছিলো, কিন্তু আমার কথা কে মনে রাখবে?

=====================================

(২)

নিঃশব্দ কান্না
সখিনা আক্তার সাথীশিশির ভেজা নির্বোধ আবছা আঁধারে,
মধ্যরাতে টুপটাপ ঝড়ে পরে তরুর পল্লব।
নিঃশব্দে অনুভূতিরা ভেসে আসে দিশেহারা পথিকের ন্যায়,
নিঝুম প্রহরে নিশাচরের আড়ালে গাছেরা কাঁদে
গাছেরও যে নিঃশব্দ কান্নার ভাষা আছে, কেউ কি তা পারে বুঝতে!

বৃষ্টি কখন ঝড়ে ঝিরি ঝিরি হয়ে, কখন ঝড়ে মুষলধারে।
কখন বা মেঘগুলো উতাল পাতাল ঢেউ তুলে আকাশের বুকে।
মাঝে মাঝে সুখের স্পর্শ পেয়ে মেঘ উড়ে যায় দিক দিগন্তে।
বৃষ্টির বারি বয়ে চলে নদীর বুকে।
স্রোতের বেশে নদী এসে মিশে সাগরের কোলে।
জলেরও তো আছে নিঃশব্দ কান্নার ভাষা, ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ঝরতে ঝরতে ঢেউ খেলে সাগরের বুকে।

রাতের আকাশের বুকে হেসে উঠে একফালি চাঁদ,
চাঁদের জ্যোৎস্নায় আলোকিত হয় আবছা প্রকৃতি।
তারাগুলো মিটিমিটি করে জ্বলে আকাশের বুকে,
কেউবা বেদনায় জর্জড়িত হয়ে লুকায় মেঘের অন্তরালে ।
প্রকৃতির চারপাশ উজ্জলিত করতে,
কতই না ঘর্ষণ হয় চাঁদ ও মেঘের
তবুও সকল বেদনাকে ভুলে গিয়ে চাঁদ হেসে উঠে এক টুকরো মেঘের ফাঁকে।

এমনি না বলা কিছু কথা নিঃশব্দ কান্নার রেশে বয়ে যায় মনের অগোচরে,
কেউ সুখে কেউ দুঃখে কেউবা চক্ষুলজ্জায় মাথা ঠুকায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।
কিছু কিছু চোখ অন্য চোখকে খুশী করতে অঝরে ঝরায় নোনাজল।
চোখেরও একটা ভাষা আছে,সেতো তার মায়াবী ইশারায় বুঝাতে চায় অনুক্ত ভাষা।
বুঝতে পারে কি কেউ সে নিঃশব্দ কান্নার ভাষা।

======================================

(৩)

কবিতাঃ একদিন ঠিক দেখা হবেই
কলমেঃ তোমাদের বন্ধু বিকাশ
প্রতিদিন টি আমায় ক্লান্তি দেয়
রাত্রি তো দেয় আমায় একটু শান্তি,
রোজ রাতে আমার চোখের সামনে মেলে ধরে
দিনের কিছু করা আমার ভুল ভ্রান্তি।।
জানি না কখন কার শেষ হয়ে যায় এই জীবনের সেরা অধ‍্যায়,,
মাঝে পড়ে থাকবে সবার কিছু স্মৃতি,কিছু হাসি,কিছু কথা,কিছু আশা,কিছু গল্প,কিছু কান্না!
এভাবে পার হয়ে যাবে একদিন সবার জীবন।
দেখা একদিন হবেই !
ছোট ছোট আশাভরা কবিতা,গল্প সব পড়ে রবে,
আমার ডাইরির পাতায়বা আমার ফোনের ফেসবুকে….
এবং অনেক গ্ৰুপে ও বন্ধুদের মাঝে!

যদি কেউ কখনো দূরে চলে যায়,ভেবো না কেউ কাউকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে…
কিছু লোকে বলে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নাকি মানুষের কথা বলার ধরণধারণটাও বদলে যায়!
বদলে যায় চেনা চেনা অনুভূতিটা!

কেউ কাউকে চিনতেও পারে না…
পাশ দিয়ে হেটে চলে গেলেও
না চেনার ভান করে।,
শুধু মনে করে এই বুঝি আমায় প্রয়োজন!
কিন্তু তুমি তো কোনোদিন প্রয়োজন ছিলেনা আমার,
যে তোমার সাথে ফর্মালিটি করবো আমি,
তুমি তো ছিলে আমার প্রিয়জন!
তাই তোমায় চিনতাম
যে সব প্রয়োজন অপ্রয়োজনের উর্দ্ধে!

আর তাইতো যখন‌ই আমার কোনো দরকার পড়ত…
যত কঠিন পরিস্থিতি আসত,
আমি সেটা নিজে মোকাবিলা করার চেষ্টা করতাম।
নিজের থেকে কখনো তোমাকে বলিনি আমার সমস্যার সমাধান করে দিয়ে যাও,
আজ ও তা বলবো না!
যতটা যা করেছো সব‌ই তো তোমার সদিচ্ছায়!

আমি কখনো আমার মনোকষ্ট বা শরীর খারাপের কথা তোমাকে রঙ চড়িয়ে বলিনি,
বরং কিছু হয়নি, ঠিক আছে… বলে দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সয়ে হাসি মুখে তোমার সাথে কথা বলতাম!
যাতে না তুমি কষ্ট পাও!আমার শরীর খারাপ শুনে তোমার মনটা খারাপ হয়ে যেতো আগে,
আজ আর তা হয় না,তাও বুঝি—👍

হ্যাঁ আর সব প্রেমিকার মতো আমি কোনোদিন ন্যাঁকা হতে পারিনি,
কষ্ট পেয়ে অভিমান করে তোমার সামনে কোনোদিন অশ্রুবন্যা বওয়াইনি…
তবে আমি প্রতিদিন রাতে কেঁদেছি নিরবে, নিভৃতে,
যে কান্নার সাক্ষী অন্তর্যামী আর আমি স্বয়ং ছাড়া কেউ নেই!

না না আছে,,, একটা কোল বালিশ ও একটি মাথার বালিশ,,,একটি ছেঁড়া চাদর,ও একটি ফোন
আর প্রানহীন চারটে দেওয়াল আর কয়েকটা জোনাকি…
ঘুরছে একটি ফ্যান,
আর টিক টিক করা সেই দেওয়াল ঘড়িটি….
যা মাঝ রাতে আমায় ঘুমাতে দিতো না!
লোকসম্মুখে তোমার কথা অনেক শুনেছি….
শুনেছি কিছু অবেগের কথাও,
আজ আর সেসব কারণে আমার চোখ খুব একটা ভেজেনা!
ভিজতে ও আর দিইনা আমি,
তাই বলে তুমি আমাকে নিষ্ঠুর নির্দয় বলে গালি দিতেই পারো,
তবে আমি জানি আমার অশ্রুবন্যা সত্যি যদি কোনোদিন তোমার সম্মুখে ঘটত তার স্রোতে সবার আগে হয়তো তুমি প্লাবিত হতে!

যদিও আমি কোনোদিন মন থেকে চাইনা এমন দিন আসুক…
কারণ তোমার প্লাবন
আজ আর প্লাবন নয়,
শুধুই একটি অভিনয়!
যে অভিনয় দেখে আমি একদিন অবাক হয়ে গিয়েছিলাম,,,
আমি দেখতে চাই না আর সেই অভিনয়!
একদিন তোমার মুখটা শুকনো দেখলেই তো আমি কেমন নার্ভাস হয়ে পড়তাম,
আর তোমাকে সচক্ষে একটু দেখবো বলে ছুটে যেতাম…
আজ এসব অতীত!
তবে এতটা শক্তিশালী আমি আজ‌ও হতে পারিনি আর তা চাইও না হতে!

আমি আড়ালেই থাকতে ভালোবাসি,
আর ভালোবাসি একটু অগোচরে থাকতে….
আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি আমার মনে কতটা কষ্ট…
শোক,তাপ তা আমি ছাড়া কাউকে জানতে দিতে চাইনা আমি!
তার মানে এই নয় আমি ভালোবাসিনি কষ্ট হয়নি আমার;
আমি চাই আমার একটা আমি থাকুক যেটা কেবল আমি জানবো,আর কেউ নয়!

তাই আবার‌ও বলছি তুমি আমার প্রয়োজন নয় প্রিয়জন ছিলে…
যাকে দরকারে অ-দরকারে সবেতেই লাগে।
যার কোনো কোনো নিয়মকানুন নেই
নেই কোনো সময় অসময়ের বাচবিচার।

প্রয়োজন নয় তুমি আমার প্রিয়জন ছিলে….
যাবার আগে বন্ধু তোমার সঙ্গে দেখ হয়তো নাই বা হলো,
সবাইকে ওই একটি জাগায় যেতে হবে,
সেখানেই হয়তো দেখা হবে!
আর কিছু আশা ও আবেগ নিয়ে আগামী কাল ভোরে জেগে উঠবো,
আর কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে কালকের দিন টি শুরু করবো
আবার একটি কবিতা দিয়ে
রাত টি শেষ করবো,
হয়তো এটাই জীবন–?
দেখা একদিন হবেই,,

======================================

(৪)

ঝরাপাতার আবেগি চিঠি
(মেঘলা আকাশের রোদ)
তানিয়া জামান

প্রিয়,
আমাদের পথটা ভিন্ন তবে আলাদা নয়, দেহটা পৃথক হতে পারে তবে আত্মাটা নয়। সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে হঠাৎ ই আমার মেঘলা আকাশে তুমি উজ্জ্বল রোদ হয়ে এলে, বহুবার বর্ষনের পরে রংধনুর সাত রঙে আমায় রঙ্গিন করে দিলে। পৃথিবীর দু’প্রান্তে দুজনের জীবন একি সমান্তরালে চলছে রেললাইনের মতো। চোখে চোখে দেখা হয়তো হয়না তবে মনের টানটা এখনো সেই আগের মতোই। বুকের ভিতর ধুকপুকানি টাও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। জানো এখন আগের চেয়ে বেশি কষ্ট হয়, অকারণের চোখে জল নামে, গভীর যন্ত্রণা আমায় মুহূর্তে গ্রাস করতে চাই। কেন এতো অন্ধকার লাগে আমার চারিদিকে। আমি বারবার সেই অন্ধকারে হাত বাড়াই তোমায় খুঁজি, কোথাও পাইনা। খুব ভয় করে মনে হয় এভাবেই যদি তোমায় হারিয়ে ফেলি , আমি কি করে বাঁচবো। মুহূর্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, পাগলের মতো খুঁজতে থাকি তোমায়, । তারপর যখন তুমি শান্ত গলায় আমায় ডাকো আমি বোঝাতে পারবোনা সেই অনুভূতিটা আমাই কতটা পাগল করে। আমার সমস্ত আবেগ অনুভূতি তুমি যখন বুঝতে পেরে আমায় আপন করে নাও তখন মুহূর্তে আমার সকল শূন্যতা গুলো পরিপূর্ণ জীবন খুঁজে পাই। তুমি বারবার আমায় ভুল বোঝ, হারিয়ে যাও মুহূর্তেই, তুমি জানোনা তোমার এ হঠাৎ ই হারিয়ে যাওয়া যে কতটা যন্ত্রণা হয়ে আসে আমি কোনদিনই বোঝাতে পারবো না। এটা যদি বুঝতে পরতাম তাহলে হয়তো কখনোই তুমি এভাবে যাওয়ার সাহস পেতেনা। আমি বারবার ছুটে যাই তোমার কাছে খুঁজে আনি তোমাকে কেননা তুমি ছাড়া আমি এক মুহুর্তও পারিনা থাকতে। আমি জানি আমি পরিপূর্ন না হয়তো তোমার যোগ্যও না তবুও বলবো প্রিয়, আমায় ছেড়ে যেও না, আমি পারবোনা বিরহ মেনে নিতে। এভাবেই ছায়া হয়ে থেকো। আমি বারবার ক্লান্ত হয়ে তোমার কাছেই ফিরে আসবো। তুমি আমার চলার পথে এক অন্যতম অদ্বিতীয়।
ভালো থেকো প্রিয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category